শহীদনূর আহমেদ::
সুনামগঞ্জের গ্রামেগঞ্জে দিনে-রাতে মিলিয়ে গড়ে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকেরা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পরীক্ষার্থী, বয়স্ক ও নারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন খামারের মালিকেরা। ক্ষোভ বাড়ছে বিদ্যুৎ বিভাগের ওপরও। গ্রাহকদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের সময়সূচি জানানো হচ্ছে না; এমনকি জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। জেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন ১২টি উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট। ফলে সরবরাহ ঘাটতির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গ্রাহকেরা বলছেন, শুধু দিনের বেলাই নয়, রাতের প্রথম ভাগেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি চরমে উঠেছে। সামনে উচ্চমাধ্যমিক, ¯œাতক ও সমমানের পরীক্ষা থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে। অন্যদিকে দিনের গরমে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের বয়স্ক ও নারী সদস্যরা। এছাড়া লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, খামার, স্টুডিও, স্টেশনারি, রেস্টুরেন্ট, লাইব্রেরি ও চালকলের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। শাল্লা উপজেলার শ্যামারচর গ্রামের তোফায়েল আহমদ বলেন, আমাদের এখানে বিদ্যুৎ গেলে আর সহজে আসে না। রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাইনা। দিনের বেলায়ও একই অবস্থা। মানুষ চরম কষ্টে আছেন। দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের জিলানী মিয়া বলেন, কারেন্ট আয় না যায়, ইতা বুঝা যায় না। কারেন্ট সেবার নামে আমাদের তামশা হচ্ছে। বিদ্যুৎ অফিসের ফোনে শত কল দিলেও কেউ উঠায় না। আমরা জানতে পারিনা কখন বিদ্যুৎ আসবে বা কখন যাবে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের রুবেল মিয়া বলেন, রাতের বেলা ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না। সন্ধ্যা হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। দিনের অবস্থা একই। প্রতিমাসে লম্বা বিল আসে। অথচ আমরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছি না। এলাকার মানুষ চরম ক্ষুব্ধ। এভাবে আর চলা যায় না। লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানতে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মিলন কুমার কুন্ডু-এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পল্লী বিদ্যুতের ওই কর্মকর্তা পরিচিত ফোন নম্বর ছাড়া সাধারণত কল রিসিভ করেন না।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
পল্লীবিদ্যুতের জরুরি ফোন নম্বরেও মিলছে না সাড়া, বিপাকে পরীক্ষার্থী-ব্যবসায়ী
গ্রামেগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, ক্ষুব্ধ গ্রাহক
- আপলোড সময় : ০৮-০৮-২০২৬ ০৯:০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৮-২০২৬ ০৯:০৯:২৬ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ